
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের যাত্রীসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ।
বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, লাগেজ কেটে মালামাল চুরি, ট্রলির সংকটসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন যাত্রীরা। পাশাপাশি চোরাচালান, মানবপাচার এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠছে—এসব অভিযোগের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হয়েছে?
বিশেষ করে লাগেজ চুরির মতো ঘটনায় বিমানবন্দরের বিস্তৃত সিসিটিভি নজরদারি থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের শনাক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সাধারণ যাত্রীর লাগেজ থেকে মালামাল হারিয়ে গেলে তদন্তের ফলাফল কী, কতজনকে শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে—এসব তথ্যও জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি উঠছে।
অন্যদিকে বিমান টিকিটের সংকট নিয়েও রয়েছে যাত্রীদের নানা অভিযোগ। অনেক সময় টিকিট পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে আসন খালি থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। টিকিট বিতরণ, আসন ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তা স্বচ্ছভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিমানবন্দরের এসব সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট সরকার বা একজন মন্ত্রীর আমলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগগুলো সামনে এসেছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা ও বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকিতে একাধিক সংস্থা যুক্ত থাকায় কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই শুধু বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজনকে আটক বা শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরের পুরো ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। অভিযোগের ক্ষেত্রে সিসিটিভি ফুটেজ, নিরাপত্তা রেকর্ড, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনার তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পর্যালোচনা করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের অনিয়মের চক্র ভাঙার পথ তৈরি হতে পারে।


Leave a Reply