Language Change
07:54 PM 27 October 2026
Breaking News
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে আমজনতার ‘তারেক’ চাকরির বাজারে বাজিমাত! যে ১০ বিদেশি ভাষা জানলে ক্যারিয়ারে মিলবে অঢেল সুযোগ গুরবাজকে বোল্ড আউট করলেন তাসকিন চাটখিলে দেলিয়াই বাজারে সাংবাদিক সৌরভের ওপর হামলার অভিযোগ, থানায় জিডি আধুনিক ইউনিয়ন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে চান মোহাম্মদ আলী ০৪ নং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এম. আনোয়ার হোসেন বাচ্চু হঠাৎ অসুস্থ, দোয়া চেয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা দিঘুলীতে বিএনপি নেতার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই বসতঘর শারদীয় পূজার আবহে দেবীর সাজে পরীমনির ৫১ সেকেন্ডের নতুন ভিডিও ভাইরাল
অপরাধ

আমদানি কমেছে ২৫%, ২ হাজার টাকা ছাড়াল ১২ কেজির সিলিন্ডার

September 28, 2026 · Zahid Hassan
৯৩

ইয়াছিন আরাফাত, লক্ষ্মীপুর জেলা, প্রতিনিধি

এক ধাক্কায় আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ঘাটতির সুযোগে বাংলাদেশ

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দরের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে রান্নায় বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারক সূত্র জানায়, গত আগস্ট মাসে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে তা নেমে এসেছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।

অথচ চলতি মাসের ২ সেপ্টেম্বর বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। বাস্তবে বাজারে সিলিন্ডার পেতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো প্রধান নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে তীব্র জাহাজসংকট দেখা

দিয়েছে এবং পরিবহন ভাড়াও বহুগুণ বেড়েছে। বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্য। মূল নৌপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বিকল্প পথে পণ্য আনতে সময় ও ব্যয় দুটোই অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে।

মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা কার্গো না পাওয়া। আগে একটি পথ বন্ধ থাকলে অন্যটি খোলা থাকত।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক বৈশ্বিক সরবরাহকারী ২০ শতাংশ সরবরাহ কাটছাঁট করেছে। আর বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না।

আমদানিকারকদের দাবি, বিশ্ববাজারে বাড়তি প্রিমিয়াম ও পরিবহন খরচের চাপ বিইআরসির মাসিক মূল্যসূত্রে পুরোপুরি সমন্বয় করা হচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যরা জানান,

বিশ্ববাজারে কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি বিইআরসির নির্ধারিত ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে ঠেকেছে। নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে বাড়তি খরচ তোলা অসম্ভব হওয়ায় অনেকে লোকসান এড়াতে আমদানি সীমিত রেখেছেন।

ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী বলেন, সেপ্টেম্বরে আমরা প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছি। বৈশ্বিক সংকটে উৎপাদকদের দিক থেকে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশই গৃহস্থালির রান্নায় ব্যবহৃত হয়। এ চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই জোগান দেয় বেসরকারি খাত।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ যথাসময়ে না পৌঁছায় সেপ্টেম্বর মাসে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট কাটাতে দ্রুত

আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক নৌপথের জটিলতা না কাটলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবর মাসেও এই সংকট বজায় থাকার ঝুঁকি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *