ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
স্টারলাইন বাসের বেপরোয়া গতি, কোল থেকে শিশুর পড়ে যাওয়ার অভিযোগ রাজধানীর ‘ব্যতিক্রম ফ্যাশন’ শোরুম এখন চন্দ্রগঞ্জে : ৪ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন লক্ষ্মীপুরের নন্দীগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা সদর কমপ্লেক্স স্থাপন: আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্টের চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান মল্লিককে ‘মিথ্যা’ মামলায় কারাগারে প্রেরণ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে ২৪২ পদে বড় নিয়োগ পাঁচ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু ট্রাম্প’কে কুরবানী দিতে সরকারের আপত্তি কোথায় ? হামজা চৌধুরীর পর এবার আসছেন চেলসি-ফুলহাম কাঁপানো ফারহান মান্দারীতে সন্ত্রাসী কায়দায় জামায়াত নেতার ঈদের ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলল বিএনপি কর্মী

## চীনের কয়লা খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণ, নিহত ৮২ শ্রমিক

শাহজালাল নাহিদ (বার্তা সম্পাদক)
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ৩৫২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৭১১

চীনের একটি কয়লা খনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ৮২ জন নিহত হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনা।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, শুক্রবার শানসি প্রদেশের কিনইউয়ান কাউন্টির লিউশেনইউ খনিতে বিস্ফোরণের সময় ভূগর্ভে ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।

চাংঝি শহরের মেয়র চেন শিয়াংইয়াং শনিবার সিসিটিভিকে জানান, “এই ঘটনায় ৮২ জন নিহত হয়েছেন।” এর আগে মৃতের সংখ্যা ৯০ বলা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, “এখনও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের খুঁজে বের করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। আরও ১২৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।” আহতদের অনেকেই বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সিসিটিভি জানায়।

চীনের কয়লা খনিগুলোকে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণগুলোর মধ্যে ধরা হয়। কারণ সেখানে নিরাপত্তা মান দুর্বল, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল এবং দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে লাভ বাড়ানোর জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা উপেক্ষা করে।

বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগেই কার্বন মনোক্সাইড সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাসের মাত্রা নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

সিজিটিএন জানিয়েছে, খনিটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, “প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট কয়লা খনি প্রতিষ্ঠান গুরুতর অবৈধ কার্যকলাপ করেছে।”

শানসি প্রদেশ চীনের প্রধান কয়লা উৎপাদন এলাকা। গত বছর সেখানে এক বিলিয়নেরও বেশি টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সব অঞ্চল ও বিভাগকে এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, ঝুঁকি ও গোপন বিপদগুলো খুঁজে বের করে দূর করতে হবে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দিতে হবে এবং আইনের আওতায় থেকে ঘটনার কারণের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।

চীনের স্টেট কাউন্সিলের একটি তদন্ত দল এই বিস্ফোরণের “কঠোর ও আপসহীন” তদন্ত পরিচালনা করবে বলে সিনহুয়া জানিয়েছে।

ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে খনির বাইরে বহু অ্যাম্বুলেন্স দেখা গেছে।

আহত খনি শ্রমিক ওয়াং ইয়ং সিসিটিভিকে বলেন, তিনি সালফারের গন্ধ পান “যেন আতশবাজির মতো” এবং ধোঁয়া দেখতে পান। “আমি সবাইকে দৌড়াতে বলেছিলাম। দৌড়ানোর সময় দেখলাম লোকজন ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে পড়ছে। তারপর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই,” তিনি বলেন।

চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় কয়লা উৎপাদক ও ব্যবহারকারী দেশ, যা বিশ্বব্যাপী মোট কয়লা ব্যবহারের অর্ধেকেরও বেশি। একই সঙ্গে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ষিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিরও বৃহত্তম উৎপাদক।

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “## চীনের কয়লা খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণ, নিহত ৮২ শ্রমিক

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

## চীনের কয়লা খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণ, নিহত ৮২ শ্রমিক

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
৭১১

চীনের একটি কয়লা খনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ৮২ জন নিহত হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনা।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, শুক্রবার শানসি প্রদেশের কিনইউয়ান কাউন্টির লিউশেনইউ খনিতে বিস্ফোরণের সময় ভূগর্ভে ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।

চাংঝি শহরের মেয়র চেন শিয়াংইয়াং শনিবার সিসিটিভিকে জানান, “এই ঘটনায় ৮২ জন নিহত হয়েছেন।” এর আগে মৃতের সংখ্যা ৯০ বলা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, “এখনও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের খুঁজে বের করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। আরও ১২৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।” আহতদের অনেকেই বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সিসিটিভি জানায়।

চীনের কয়লা খনিগুলোকে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণগুলোর মধ্যে ধরা হয়। কারণ সেখানে নিরাপত্তা মান দুর্বল, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল এবং দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে লাভ বাড়ানোর জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা উপেক্ষা করে।

বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগেই কার্বন মনোক্সাইড সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাসের মাত্রা নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

সিজিটিএন জানিয়েছে, খনিটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, “প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট কয়লা খনি প্রতিষ্ঠান গুরুতর অবৈধ কার্যকলাপ করেছে।”

শানসি প্রদেশ চীনের প্রধান কয়লা উৎপাদন এলাকা। গত বছর সেখানে এক বিলিয়নেরও বেশি টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সব অঞ্চল ও বিভাগকে এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, ঝুঁকি ও গোপন বিপদগুলো খুঁজে বের করে দূর করতে হবে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দিতে হবে এবং আইনের আওতায় থেকে ঘটনার কারণের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।

চীনের স্টেট কাউন্সিলের একটি তদন্ত দল এই বিস্ফোরণের “কঠোর ও আপসহীন” তদন্ত পরিচালনা করবে বলে সিনহুয়া জানিয়েছে।

ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে খনির বাইরে বহু অ্যাম্বুলেন্স দেখা গেছে।

আহত খনি শ্রমিক ওয়াং ইয়ং সিসিটিভিকে বলেন, তিনি সালফারের গন্ধ পান “যেন আতশবাজির মতো” এবং ধোঁয়া দেখতে পান। “আমি সবাইকে দৌড়াতে বলেছিলাম। দৌড়ানোর সময় দেখলাম লোকজন ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে পড়ছে। তারপর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই,” তিনি বলেন।

চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় কয়লা উৎপাদক ও ব্যবহারকারী দেশ, যা বিশ্বব্যাপী মোট কয়লা ব্যবহারের অর্ধেকেরও বেশি। একই সঙ্গে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ষিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিরও বৃহত্তম উৎপাদক।