যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব এবং ইরানের অবস্থান
- আপডেট সময় : ০৮:০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ১০৩ বার পড়া হয়েছে

ইরান জানিয়েছে, তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। সূত্রমতে, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হতে পারে, যদিও এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন দাবিগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বুধবার জানিয়েছেন যে, তেহরান শীঘ্রই তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিশ্বাস করেন যে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, “তারা একটি চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং সম্ভবত আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।”
মার্কিন প্রস্তাবে কী আছে?
অ্যাক্সিওসের (Axios) তথ্যমতে, উভয় পক্ষ ১৪ দফা সম্বলিত একটি সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি রয়েছে। এই প্রস্তাবের অধীনে:
-
পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরান অন্তত ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে এবং কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
-
নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ: বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং বিদেশে আটকে থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্তি দেবে।
-
হরমুজ প্রণালী: চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী উভয় পক্ষ খুলে দেবে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাবনা
ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি, তবে দেশটির অভ্যন্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইরানের সংসদীয় কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি এই প্রস্তাবকে বাস্তবতার চেয়ে “আমেরিকানদের ইচ্ছার তালিকা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টিকে নিয়ে কিছুটা বিদ্রূপ করেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে। তেহরানের মূল দাবি হলো:
১. আগে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
২. সরাসরি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গ্যারান্টি লাগবে।
৩. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান তাদের ৩.৬৭ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় রাখতে চাইবে, যা বর্তমান প্রস্তাবে একটি বড় বাধা হতে পারে।
প্রেক্ষাপট
গত জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল। ইরানও এর প্রতিশোধ নিতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা নিরসনেই এই শান্তি আলোচনা চলছে।















