পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে চরম শারীরিক নির্যাতন ও বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন লক্ষ্মীপুরের সাবেক ছাত্রনেতা এ আর বিপ্লব। ক্ষোভ প্রকাশ করে সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এত গুরুতর অপরাধ ও অভিযোগের পরও কীভাবে আজও ওসি লোকমান চাকরিতে বহাল আছেন?’

বিপ্লবের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে তাকে আটক করার পর আদালতে ২০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকাকালে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এই নির্যাতনের কারণে তার কোমরের লিগামেন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে আজও তাকে শারীরিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’ থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন ওসি লোকমান সরাসরি জড়িত ছিলেন দাবি করে বিপ্লব বলেন, লক্ষ্মীপুরে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের বহু নেতা-কর্মীকে নির্যাতন ও পঙ্গু করার পেছনেও এই কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন।

তবে বিপ্লবের উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় বা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মোহাম্মদ লোকমান হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থাকা অবস্থায়ও তার বিরুদ্ধে থানা-হাজতে আটকে রেখে টাকা ও ব্যাংকের চেক আদায়ের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছিল। তৎকালীন বিচারক অভিযোগটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও ওই সময় ওসি লোকমান তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, কাউকে জোরপূর্বক আটকে রাখা বা টাকা নেওয়া হয়নি।

এর আগে ২০১৪ সালেও রামগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেনসহ পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক যুবদল নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়েরের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

সাবেক ছাত্রনেতা এ আর বিপ্লবের সাম্প্রতিক এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ লোকমান হোসেনের বর্তমান কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের সঠিকতা ও সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, চলমান বা সম্পন্ন তদন্ত প্রতিবেদন ও আদালতের আইনি আদেশ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।